Skip to content

নিউ টাউনে মাঝরাতে আম চুরি ভাইরাল; সস্তার পাবলিসিটি নাকি সত্যি অপরাধ?

  • News

নিউ টাউনের একটা চমকে দেওয়ার মতো ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক আর চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মাঝরাতে নিউ টাউনের রাস্তার ধারের গাছ থেকে আম পেড়ে সাবাড় করার একটা ভিডিও এক যুবক নিজেই শুট করেছে। তবে শুধু মাঝরাতের এই কাণ্ড দেখেই নেটপাড়া ক্ষেপে যায়নি—সবচেয়ে বেশি রাগ চড়েছে তার অদ্ভুত যুক্তি আর বাকিদেরও সেখানে এসে আম পাড়ার খোলাখুলি আমন্ত্রণ দেখে।

যুবকের দাবি— সরকারি গাছ থেকে এভাবে আম পাড়া নাকি পুরোপুরি বৈধ, কারণ গাছগুলো সরকারের! এখানেই শেষ নয়, ব্যাপারটা আরও বাড়াতে সে ভিডিওতে বুক ফুলিয়ে বলছে যে, আশেপাশেই একটা লাঠি লুকিয়ে রেখে এসেছে সে, যাতে পরে যারা আসবে তারা অনায়াসে আম পেড়ে খেতে পারে।

গল্পে নতুন মোড়: লুকিয়ে রাখা একটা ডিসক্লেমার ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক

আইনি ঝামেলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটর চুপিসাড়ে তার ইনস্টাগ্রাম ডেসক্রিপশনে একটা ডিসক্লেমার জুড়ে দিয়েছে। সেখানে সে দাবি করেছে যে, "আসলে গাছ থেকে কোনো আমই পাড়া হয়নি" আর পুরো ভিডিওটাই বানানো হয়েছে স্রেফ "বিনোদনের উদ্দেশ্যে"।

তবে এই সাফাইয়েও কিন্তু বিতর্কের আগুন একটুও কমেনি।

সমালোচকদের মতে, এই ডিসক্লেমার আসলে একটা দুর্বল ঢাল মাত্র। সোশ্যাল মিডিয়া রিলসের এই দ্রুতগতির দুনিয়ায়, ভিডিও থামিয়ে ডেসক্রিপশন খুলে পড়ার সময় বা ইচ্ছে খুব কম মানুষেরই থাকে।

বেশিরভাগ মানুষই শুধু ভিডিওর ভেতরের দৃশ্যটুকু দেখেই চলে যায়, যার ফলে তাদের মনে একটা মারাত্মক ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে—যে ইন্টারনেটে একটু সস্তার জনপ্রিয়তার জন্য সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বোধহয় কোনো ব্যাপারই নয়।

এটা কি সরকারি সম্পত্তি নাকি সস্তার স্টান্টবাজি করার খোলা ময়দান?

এই ঘটনাটি সরকারি সম্পত্তি আর কনটেন্ট তৈরির সীমারেখা নিয়ে একটা জরুরি চর্চা বা আলোচনা আবার নতুন করে উস্কে দিয়েছে।

ভিডিওতে ওই যুবক যুক্তি দেখিয়েছে যে সরকারি জিনিস মানেই তা সবার, কিন্তু সচেতন নাগরিকরা তার এই ধারণাকে কড়া ভাষায় ভুল প্রমাণ করেছেন।

পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে চিন্তা বাড়ার সাথে সাথেই নেটিজেনরা এখন পুলিশের কড়া পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন

ভাইরাল এই পোস্টের কমেন্ট সেকশন এখন পুরো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

বেশিরভাগ নেটিজেনই এখন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ট্যাগ করে ওই যুবকের দ্রুত পরিচয় খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের স্পষ্ট কথা—"বিনোদনের" অজুহাত যাই থাকুক না কেন, ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়, তার জন্য পুলিশের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

আইনি জটিলতার বাইরেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন ঐতিহ্য এবং পরিবেশগত দিকগুলোও সামনে আসছে।

অনেকেই এই কাজের পেছনে থাকা সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত অসচেতনতার দিকটি তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য—রাতের বেলা, যখন গাছেরা বিশ্রামের অবস্থায় থাকে, তখন গাছে আঘাত করা বা আঘাত করার ভান করা অত্যন্ত অনৈতিক ও অনুচিত কাজ।

জবাবদিহিতার দাবি দিন দিন যত জোরালো হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই এখন সবার নজর হিডকো (HIDCO), এনকেডিএ (NKDA) এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর। ভাইরাল স্টান্টবাজদের হাত থেকে নিউ টাউনের এই সবুজায়নকে রক্ষা করতে তারা শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Discover more from New Town Khobor

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading

Discover more from New Town Khobor

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading